ইসরায়েলের যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি ইরানের
ইরানের আকাশসীমায় অভিযান চালাতে গিয়ে ইসরায়েলের একটি যুদ্ধবিমান তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। দেশটির প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর বরাতে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা এ তথ্য জানিয়েছে। তবে এ দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে ইসরায়েল, তারা বলছে—তাদের কোনো যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি এবং সব মিশন পরিকল্পনা অনুযায়ী সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরুর পর থেকে এটি এ ধরনের তৃতীয় ঘটনার দাবি তুলল ইরান। এর আগে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী স্বীকার করেছিল যে, ইরানের আকাশসীমায় তাদের একটি যুদ্ধবিমান বিমান-বিধ্বংসী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মুখে পড়েছিল। তবে তারা জানায়, উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে হুমকি শনাক্ত করে বিমানটি কোনো ক্ষতি ছাড়াই নিরাপদে ঘাঁটিতে ফিরে আসে এবং নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানে।
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, চলমান উত্তেজনার মধ্যে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। তাদের মতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের আকাশে অনুপ্রবেশকারী ড্রোন, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, জ্বালানি বহনকারী (রিফুয়েলিং) উড়োজাহাজ এবং যুদ্ধবিমানসহ ২০০-এর বেশি আকাশযান ধ্বংস করা হয়েছে। যদিও এসব দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবুও উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের তথ্যযুদ্ধ (information warfare) আধুনিক সংঘাতে খুবই সাধারণ বিষয়। প্রতিটি পক্ষই নিজেদের সামরিক সক্ষমতা ও সফলতা তুলে ধরতে চায়, পাশাপাশি প্রতিপক্ষকে দুর্বল হিসেবে উপস্থাপন করতে চায়। ফলে প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে নিরপেক্ষ সূত্র ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের ওপর নির্ভর করা জরুরি।
সাম্প্রতিক এই উত্তেজনা গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যদি সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করে, তবে তা কেবল সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্যই নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
0 comentários: